বাংলাদেশ ও বহিঃবিশ্বের বাস্তব চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কারিগরি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সাম্প্রতিককালে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে “Skills and Training Enhancement Project (STEP)” শীর্ষক প্রকল্প। পাচঁ বছর মেয়াদি (জুলাই ২০১০ জুন ২০১৫) এ প্রকল্পে যৌথভাবে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক। মোট ৬৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুনগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের নিকট কারিগরি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে STEP এবং সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি (SIMT) একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

(ক) Implementation Gran প্রদান: ডিপ্লোমা পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সমূহকে Implementation Grant প্রদান করছে। ২৫টি সরকারি ও ০৫টি বেসরকারি মোট ৩০টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের প্রতিটি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সাত কোটি টাকা পাচ্ছে। এই অর্থ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো মেরামত ও পুনবার্সন, প্রশিক্ষণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন , পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, আর্থিক ও ব্যবস্থাপনার মনোনয়ন সহ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

(খ) বৃত্তি প্রদান: শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহ প্রদান ও খরচের ভার লাঘব করা, ড্রপ আউট হ্রাস করা, ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাশের হার বৃদ্ধি করা এবং লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল ছাত্রী এবং আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর ছাত্রদেরকে চার বছর ব্যাপী মাসিক ৮০০টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এভাবে পাঁচ বছরে প্রায় ১,৬০,০০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

(গ) স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণঃ স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ (৩৬০ঘন্টা বা ৬মাস) কোর্স পরিচালনা কারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রশিক্ষণের গুনগত মানোন্নয়ন এবং প্রশিক্ষনার্থীদেরকে উৎসাহ প্রদান ও খরচের ভার লাঘব করার লক্ষ্যে আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে। এই সহায়তার আওতায় নির্বাচিত ৫০টি (৪২টি সরকারি ও ৮টি বেসরকারি) প্রতিষ্ঠানকে প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর বিপরীতে ১৭,৫০০টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্য থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ৬মাসের জন্য Stipend হিসেবে ৪,২০০টাকা পাচ্ছে এবং অবশিষ্ট অর্থ টিউশন ফি ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য পাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এভাবে প্রকল্প মেয়াদে মোট ৫০,০০০ প্রশিক্ষার্থী স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ সুবিধা লাভ করবে। এছাড়া BGMEA, BKMEA এবং BAIRA এর মাধ্যমে ২০,০০০ জন দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক এবং শ্রম-ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত ৫০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

(ঘ) শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষা যদি হয় জাতির মেরুদন্ড, তাহলে শিক্ষক হচ্ছে শিক্ষার মেরুদন্ড। দেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনগুলোতে সেই শিক্ষকের প্রায় অর্ধেক পদ এতদিন শূন্য ছিল। STEP প্রকল্প থেকে ২৫টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনে ৫৭৬ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

(ঙ) Placement Cell স্থাপন: পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে Placement Cell স্থাপনের মাধ্যমে Industry ও Polytechnic Institute এর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করাসহ শিক্ষার্থীদের জন কর্মসংস্থান সহজলভ্য করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সেই সাথে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সমতার পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

(চ) ISC/NSDC শক্তিশালীকরণ: দেশের Industry Skills Council সমূহ এবং National Skills Development Council (NSDC) - কে সার্বিক সহায়তা প্রদান ও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

(ছ) SSC (Vocational) এর মানোন্নয়ন: SSC (Vocational) এর বর্তমান কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১২০টি স্কুলের (ভোকেশনাল) বিদ্যমান ওয়ার্কশপ/ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ছাত্র বৃত্তির কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে।

(জ) প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি: কারিগরি শিক্ষার পরিচালনা কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আসবাবপত্র ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ কম্পিউটার সামগ্রী সরবরাহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদি।

(ঝ) বাস্তবায়ন , পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন: উল্লিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী প্রকল্প ইউনিট গঠন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগসহ ই-কমিউনিকেশন এবং ই-ম্যানেজমেন্ট চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং গৃহীত কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

SIMT-এর সম্পৃক্ততা: সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি (SIMT) একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। STEP তথা সরকারের বিচারে দেশের সেরা পাঁচটি বেসরকারি পলিটেকনিকের মধ্যে সাইক অন্যতম। মূলত: মানসম্মত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাইককে প্রকল্পের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। লেখাপড়ার মান আরো বৃদ্ধি করা এবং সার্বিকভাবে সাইকের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প ও সাইকের মধ্যে চুক্তি হয়। সে মোতাবেক সাইক প্রায় সাত কোটি টাকা Implement Grant আকারে অনুদান পাচ্ছে। এ অর্থ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের বিধি-বিধান অনুযায়ী এবং সাইকের অনুমোদিত প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনার শর্ত মোতাবেক ভৌত অবকাঠামো মেরামত ও পুর্নবাসন, প্রশিক্ষণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট ও প্রশিক্ষণ, Job Placement Cell স্থাপন এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নসহ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষাকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, র‌্যালী ইত্যাদি। শক্তিশালী Placement Cell স্থাপনের মাধ্যমে IndustryÕi সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন ও মানসম্মত এবং সহজলভ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নিরন্তর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এই পুস্তিকা প্রকাশিত হলো।

স্কিলস এন্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট এবং সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি যৌথভাবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসব কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আশা করা যায়।